Salt Intake - খাবার লবন সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)

খাবার লবন সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)
লবন ছাড়া আমাদের প্রতিদিনের কোন খাবারই রান্না বা খাওয়া সম্ভব নয়।কিন্তু কতটুকু লবন খাওয়া উচিৎ তা নিয়ে গ্রুপের চারিদিকে খালি কনফিউশান আর কনফিউশান
লবন হল কেমিক্যালি সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন লবন ভাজলে/টাললে বা পানিতে গুলালে/জ্বাল দিলে কিন্তু সেটা সোডিয়াম ক্লোরাইড থেকে কেমিক্যালি চেঞ্জ হয়ে অন্য কিছু হয়ে যায়না।এজন্য তরকারির রান্না লবনের সাথে কাচা/ভাজা/সিদ্ধ লবনের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।যেকোনো চেহারার লবনকে আপনার দৈনন্দিন লবন খাওয়ার লিমিটের মধ্যেই গণনা করতে হবে।
হয়ত আপনাদের কনফিউশান এ কারনে হয় যে ডাক্তার রুগিদেরকে পাতে কাঁচা লবন খেতে মানা করেন।এজন্য লবনের টপিক আসলেই আপনারা ভর্তায় বা ফলের সাথে লবন খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করছেন।
ডাক্তার যখন রুগিকে লবন রেস্ট্রিকশন করে দেন তখন লবন ছাড়া যেহেতু কোন রান্না করা তরকারি খাওয়া সম্ভব না সেহেতু শুধুমাত্র সেই লবনটুকুই খেতে বলেন।প্লেটের পাশের এক্সট্রা লবন বা ‘কাঁচা লবন’ খাওয়ার নিষেধটা সেখান থেকে আসে।কারন ওই লবনটুকু খাওয়া বাদ দিলে ডেইলি সল্ট ইনটেক অটোমেটিক কমে যায়। তার মানে এই না যে কাঁচা লবন ভেজে (পাকায়) খাওয়া যাবে।
ভর্তায় স্বাভাবিক মাত্রার লবন খাবেন।আর ফলে যদি লবন খেতে চান তাহলে অল্প করে খাবেন বা অন্য খাবারে সামান্য কম খাবেন।তবে আপনার ইলেকট্রোলাইট রিপোর্ট ঠিক থাকলে এটা প্রযোজ্য।
ট্রান্সপ্লান্টের পর অনেকের বারবার সোডিয়াম কমে যাওয়ার সমস্যা হয়।সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন।তিনি প্রতিদিন কতটুকু লবন বেশি খেতে বলেন এবং কতদিন বেশি খেতে বলেন এটা ক্লিয়ারলি জেনে নিবেন।রেগুলার ইলেকট্রোলাইট টেস্ট করবেন।
- CKD রুগিদের হাই ব্লাডপ্রেশার এর জন্য এক্সট্রা সব ধরনের লবন বাদ দিতে হবে যেমন – প্লেটের পাশের এক্সট্রা লবন, ফলের সাথের এক্সট্রা লবন।এমনকি খাবার রান্নাতেও লবন কমাতে হবে।
লাস্টে আরো ২ রকম লবনের কথা একটু শর্টে বলিঃ
**বীট লবনঃ
গবেষণায় প্রমাণিত যে বীট লবন Carcinogenic অর্থাৎ এটা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।কাজেই শুধু CKD রুগি বা ট্রান্সপ্লান্ট না, সুস্থ মানুষেরও বর্জন করা উচিত। বীট লবন দেয়া হয় বোরহানি, হাজমোলা, দোকানের মাখানো ফলে।বোরহানি রেগুলার কেউ খায়না, এজন্য মাঝেমাঝে খেলে খুব একটা সমস্যা না।কিন্তু হাজমোলা অনেকে খুব পছন্দ করে সারাদিন খায়।এটার ব্যাপারে সাবধান।
**Low Sodium Saltঃ
এরকম লবন ইন্ডিয়াতে এভেইলেবল।টাটা কোম্পানি থেকে ‘Tata Salt Lite’ নামে বাজারজাত করা হয়।বাংলাদেশে এখোনো দেখিনি কিন্তু যেকোন দিন হয়ত চলে আসবে বাজারে।
এই লবন অন্য সব ধরনের হাইপ্রেশারের রুগির জন্য ভাল।কিন্তু কিডনি রুগির জন্য বিষ।কারন এটাতে লো সোডিয়াম থাকলেও হাই পটাশিয়াম থাকে।আর পটাশিয়াম নিয়ে কিডনি রুগি বা ট্রান্সপ্লান্টদেরকে নতুন করে বোঝানোর কিছু নাই।
ⒸBKPA
এই কনটেন্টটি কতটা সহায়ক ছিল?
সতর্কতাঃ বিকেপিএ একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যার লক্ষ্য কিডনি রোগ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,প্রচার এবং সতর্ক করা। বিকেপিএতে সামাজিক মাধ্যম অথবা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রত্যক্ষ / পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা বা পরামর্শ প্রদান করা হয় না যা শুধুমাত্র আপনার নেফ্রোলজিস্ট এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের এখতিয়ার।বিকেপিএ প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোন প্রকার চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ।

