Water Intake for Kidney Patients - কিডনি রোগি ও ডায়ালাইসিস রোগিদের জন্য পানির পরিমান.

CKD এর বিভিন্ন স্টেজে এবং ডায়ালাইসিসের সময় পানির পরিমান কতটুকু হবে তা রুগির নেফ্রোলোজিস্ট ঠিক করে দিবেন।তবে অসুখ যত এডভান্সড স্টেজের দিকে যাবে তত ধীরেধীরে পানির পরিমান কমতে থাকবে।
টিপসঃ
*প্রতিদিনের চা/কফি/দুধ/শরবত বা অন্যান্য পানি সবই আপনার এই প্রতিদিনের ঠিক করে দেয়া পানির পরিমানের মধ্যে গণনা করতে হবে।
*বেশি পানিযুক্ত ফল খাওয়া যাবেনা। (কিডনি অসুখে বেশিরভাগ ফল মানা করে দেয়া থাকে পটাশিয়াম আধিক্যের জন্য।)
*বেশি পানি না খাওয়ার জন্য কিছু টেকনিক ফলো করতে পারেন।যেমনঃ
-গ্লাসে/মগে পানি না খেয়ে কাপে অল্প অল্প করে পানি খাওয়া
-অতিরিক্ত চিনি/লবনযুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিংকস পরিহার করা।কারন এগুলো পিপাসা আরো বাড়িয়ে দেয়।
পানির পরিমান ঠিক রাখতে না পারলে কিডনি রুগি ও ডায়ালাইসিস নেয়া রুগিরা হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারেন।এছাড়া ডায়ালাইসিস রুগিদের শরীরে বেশি পানি জমলে তার ডায়ালাইসিস নেয়াটা কষ্টকর হয়ে পড়ে,ডায়ালাইসিসের সময় বিপি কমে/বেড়ে যায়, হাত-পায়ের মাসল ক্রাম্প করে, অনেকসময় ৪ ঘন্টা শেষ হওয়ার আগেই ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিতে হয়। একদিনের জমা পানি পরবর্তী ৩-৪ ডায়ালাইসিস সেশনে অল্পঅল্প করে বের করতে হয়।(ছবি দ্রষ্টব্য)
- ট্রান্সপ্লান্টের পর পানির পরিমান
ট্রান্সপ্লান্টের পর প্রথম বছর (ক্রিয়েটিনিন ফিক্স হওয়া পর্যন্ত) পানি খাওয়ার পরিমান অনেক বেশি রাখতে হয় এবং এ পরিমান আপনার শারীরিক অবস্থা ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ট্রান্সপ্লান্ট নেফ্রোলোজিস্ট ঠিক করে দিবেন।সেটা প্রায় ৫ লিটারের কাছাকাছি হবে।
কিন্তু ক্রিয়েটিনিন ফিক্স হয়ে যাওয়ার পর পানি কিছুটা কম খাওয়া উচিত।
প্রতিটি ট্রান্সপ্লান্ট করা মানুষের জন্য প্রতিদিন পানির পরিমান হওয়া উচিত ৩ লিটার।এটা সর্বনিম্ন পরিমান।ক্ষেত্র বিশেষে এই পরিমান কিছুটা বাড়াতে হতে পারে।যেমনঃ
-Body Surface Area অর্থাৎ উচ্চতা এবং ওজন যদি বেশি হয়।
-ঘরের বাইরে বেশি সময় কাজ করলে।
-বেশি ঘাম হলে।
-গরমের সময়টাতে।
এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে পানির পরিমান বাড়িয়ে ৩.৫-৪ লিটার করা যেতে পারে।
টিপসঃ
*ট্রান্সপ্লান্টের পর যখন পানির পরিমান কমাবেন তখন একবারে হঠাৎ করে না কমিয়ে আস্তে আস্তে কমাতে হবে।যেমন প্রতি ১০ বা ১৫ দিনে ২৫০মিলি করে কমাবেন।এসময় ক্রিয়েটনিন ফলোআপে রাখতে হবে।
*অনেকে ক্রিয়েটিনিন ফিক্স হওয়ার পরও পানি খাওয়া কমান না।একটা জিনিস মনে রাখবেন - পানি খাওয়ার কিছুক্ষন পর তা ইউরিন হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে গেল - ব্যাপারটা এত সিম্পল না।পানি শোষণ হওয়ার পর রক্তে মিশে, সেই রক্ত হার্ট পাম্প করে সারা শরীরে ঘুরায়, একসময় তা কিডনিতে পৌঁছালে ফিল্টার হয়, ফিল্টার হওয়া পানির বেশিরভাগ কিডনি দিয়েই পুনঃশোষণ হয়ে আবার রক্তেই মিশে যায়।
কাজেই অনেকবেশি পানি দীর্ঘদিন ধরে খেলে হার্টের উপর চাপ পড়ে।কিডনির মত হার্ট ও আমাদের ভাইটাল অরগ্যান। কিডনির কারনে হার্টের ক্ষতি মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়।এ সম্পর্কে আমাদের গ্রুপ মেম্বার #অপু অপু এর খুব সুন্দর একটা পোস্ট আছে।প্রথম কমেণ্টে লিংক শেয়ার করলাম।
*ট্রান্সপ্লান্টের পর মেইন টার্গেট হল শরীরকে সবসময় হাইড্রেটেড রাখা এবং পানিশুন্যতা হতে না দেয়া।এজন্য একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্পঅল্প করে সারাদিন ধরে পানিটা শেষ করেন।প্রতি ১-দেড় ঘন্টা পরপর দুই-তিন ঢোঁক পানি খান।
*এসময় ও অতিরিক্ত চিনি/লবন, কোল্ডড্রিংকস, শরবত এগুলো পরিহার করতে হবে।কারন এগুলো পানিশুন্যতা কমায়না, বরং বাড়িয়ে দেয়।
*ইউরিন কালার পানিশুন্যতা নির্ধারণে খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। (ছবি দ্রষ্টব্য)
পানি বিশুদ্ধকরণঃ
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পানি বিশুদ্ধকরনের সবচেয়ে উপযোগী উপায় হল পানি ফুটানো।পাত্রে পানি নিয়ে তা ঢাকনা দিয়ে roling boil হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।রোলিং বয়েল শুরু হওয়ার পর ৩-৫ মিনিট ফুটানো যথেষ্ট। এরপর ঢাকনাসহ ঠান্ডা হলে ফিল্টার করলে তা মোটামুটি খাওয়ার উপযুক্ত বলে ধরে নেয়া যায়। বাজারের মিনারেল ওয়াটার বাধ্য না হলে খাওয়া উচিত না।
ধন্যবাদ।
ⒸBKPA
এই কনটেন্টটি কতটা সহায়ক ছিল?
সতর্কতাঃ বিকেপিএ একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যার লক্ষ্য কিডনি রোগ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,প্রচার এবং সতর্ক করা। বিকেপিএতে সামাজিক মাধ্যম অথবা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রত্যক্ষ / পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা বা পরামর্শ প্রদান করা হয় না যা শুধুমাত্র আপনার নেফ্রোলজিস্ট এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের এখতিয়ার।বিকেপিএ প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোন প্রকার চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ।

