অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন যে, বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক ও উন্নত ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের মতো এবার আমাদের দেশেও NILMRC-তে MMF AUC Level Test চালু হতে যাচ্ছে। কিডনি প্রতিস্থাপন বা রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারে আমার ফেলোশিপ ট্রেনিং সম্পন্ন করার সুবাদে খুব কাছ থেকে প্র্যাক্টিক্যালি দেখার সুযোগ হয়েছে—কখন, কেন এবং কীভাবে আমরা রোগীদের এই বিশেষ MMF AUC টেস্টটি করিয়ে থাকি।
আমাদের রোগীদের এবং সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে পুরো বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুব সহজভাবে নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি :
CNI Trough Level (ট্যাক্রোলিমাস বা সাইক্লোস্পোরিন): এর জন্য সাধারণত সকালে ওষুধ খাওয়ার ঠিক আগে মাত্র ১ বার রক্তের স্যাম্পল নেওয়া হয়। এই একটি স্যাম্পল থেকেই শরীরে ওষুধের সারাদিনের মাত্রা খুব সহজ ও নির্ভুলভাবে অনুমান করা যায়।
MMF AUC Level (মাইকোফেনোলেট): এর জন্য মাত্র ১ বার রক্ত পরীক্ষা করলে কোনো সঠিক হিসাব আসে না। এর জন্য ওষুধ খাওয়ার আগে এবং পরে নির্দিষ্ট সময় পরপর কয়েকবার রক্তের স্যাম্পল নিতে হয় এবং একটি বিশেষ গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে সারাদিনের মোট কার্যকারিতার একটি সম্পূর্ণ ম্যাপ (Area Under the Curve) তৈরি করতে হয়।
এন্টারোহেপাটিক সাইক্লিং (Enterohepatic Cycling): MMF ওষুধটি খাওয়ার পর তা লিভার হয়ে পিত্তরসের সাথে আমাদের অন্ত্রে বা পেটে যায়। সেখানে পেটের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া ওষুধটিকে ভেঙে পুনরায় রক্তে শোষণ করে। এর ফলে ওষুধ খাওয়ার ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর রক্তে ওষুধের আরেকটি বড় নতুন ‘পিক’ বা ঢেউ তৈরি হয়।
Trough Level-এর সীমাবদ্ধতা: সকালে খালি পেটে মাত্র ১ বার রক্ত নিলে (Trough Level) দুপুরের এই আসল মাত্রাটি সম্পূর্ণ মিস হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, MMF-এর ক্ষেত্রে সকালের ১ বারের ট্রাফ লেভেলের সাথে শরীরের আসল ড্রাগ এক্সপোজারের মিল মাত্র ৪০% বা তারও কম। তাই সারাদিনের মোট মাত্রা নিখুঁতভাবে জানতে সম্পূর্ণ AUC পরীক্ষা করা আবশ্যক।
একটি ভুল ধারণা বনাম আসল সত্য: অনেক সময় মনে করা হয় ওজন বা ফিক্সড ডোজের কারণে MMF সবার শরীরে একই রকম থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ফিক্সড ডোজে রাখলেও একেক মানুষের শরীরে MMF-এর মাত্রার মধ্যে ১০ গুণেরও বেশি তারতম্য হতে পারে।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট ও ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ বারের পদ্ধতি: বিভিন্ন দেশে এই পরীক্ষাটি ভিন্নভাবে করা হলেও, আমাদের দেশে শতভাগ নিখুঁত ফলাফলের জন্য ক্লাসিক্যাল ‘৬ বার স্যাম্পল নেওয়ার পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হবে। এই পদ্ধতিতে প্রথম ৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট বিরতিতে মোট ৬ বার রক্তের স্যাম্পল নেওয়া হয়।
রুটিনলি না করার কারণ: যেহেতু মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে মোট ৬ বার সুই ফোটাতে হয় এবং ল্যাবে অনেকটা সময় দিতে হয়, তাই পরীক্ষাটি সাধারণ টেস্টের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল ও কষ্টদায়ক। এই লজিস্টিক জটিলতার কারণেই এটি নিয়মিত না করে কেবল বিশেষ সমস্যা সমাধানের বড় Tool হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ক. Unexplained বা Refractory Allograft Dysfunction (অনির্দিষ্ট গ্রাফট অকার্যকারিতা):
CNI optimum dose, Steroid এবং স্ট্যান্ডার্ড ডোজে MMF থেরাপী চলাকালীনও যদি সিরাম ক্রিয়েটিনিন বাড়ে বা বায়োপসিতে রিজেকশন (TCMR/ABMR) ধরা পড়ে, তবে ড্রাগের ঘাটতি (Underexposure) নিশ্চিত হতে।
Highly Sensitized/DSA-positive Patients: যাদের রক্তে রিজেকশনের ঝুঁকি (যেমন- High PRA,second transplant, de novo DSA) অনেক বেশি, তাদের সর্বোচ্চ প্রোটেকশন ও নিখুঁত থেরাপিউটিক লেভেল নিশ্চিত করতে।
খ. Persistent Drug Toxicities (ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া):
MMF-এর ডোজ কমানোর (Dose Reduction) এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সাধারণ কারণ (যেমন- GI Infection বা other drug induced Cytopenia) বাদ দেওয়ার (Exclude) পরও যদি তীব্র রক্তস্বল্পতা (Anemia), শ্বেতকণিকা মারাত্মক কমে যাওয়া (Leukopenia/Neutropenia) বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ভালো না হয়, তখন ড্রাগের প্রকৃত overexposure পরীক্ষা করতে।
Refractory Viral Infection: CMV রেপ্লিকেশন বা BK Virus নেফ্রোপ্যাথিতে প্রাথমিকভাবে MMF ডোজ কমানো এবং অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির পরও যদি ইনফেকশন না কমে, তখন ওষুধের কার্যকারিতা বজায় রেখে কতটুকু ডোজ কমানো নিরাপদ তা নির্ধারণ করতে।
গ. Immunosuppression Regimen Change (ওষুধের পরিবর্তন ও ইন্টারঅ্যাকশন):
Cyclosporine থেকে Tacrolimus-এ সুইচ করলে: সাইক্লোস্পোরিন বন্ধ করলে MMF-এর মেটাবলিজম হঠাৎ পরিবর্তন হয়, যার ফলে রক্তে MMF AUC হঠাৎ ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই সময় টক্সিসিটি এড়াতে AUC করা হয়।
CNI-Minimization বা CNI-Free Protocol: যখন ট্যাক্রোলিমাস বা সাইক্লোস্পোরিনের ডোজ অনেক কমিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন রিজেকশন ঠেকাতে MMF-এর AUC level পর্যাপ্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে।
Courtesy
ডা. শেখ ইমরান হোসেন
এম.বি.বি.এস, এম.ডি (নেফ্রোলজি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফআইএসএন (ব্যাংকক)
ফেলোশিপ ইন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট (থাইল্যান্ড)
কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট
Caution:
BKPA is a voluntary social organization whose mission is to raise awareness, promote and share knowledge about kidney disease. BKPA does not provide any kind of medical advice directly or indirectly through social media or any other platform which should only be done by the nephrologist or registered doctor. This is prohibited to take any kind of medical treatment based on the information provided by BKPA.
সতর্কতাঃ
বিকেপিএ একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যার লক্ষ্য কিডনি রোগ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,প্রচার এবং সতর্ক করা। বিকেপিএতে সামাজিক মাধ্যম অথবা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রত্যক্ষ / পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা বা পরামর্শ প্রদান করা হয় না যা শুধুমাত্র আপনার নেফ্রোলজিস্ট এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের এখতিয়ার।বিকেপিএ প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোন প্রকার চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ।